মায়ের প্রেমিককে নিজ হাতে কু’পিয়েই মারলো ছেলে

মাদারীপুরের কালকিনিতে মায়ের পর’কীয়ার জের ধরে ছেলের হাতে মো. জাহিদ মীর(২০) নামের এক যুবক খু’ন হওয়ার অভিযো’গ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভি’যুক্ত ছেলের বসতঘরসহ ৬টি ঘরে অ’গ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। এদিকে খু’নের ঘটনায় ওই এলাকা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাস্থলে সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে বিপুলসংখ্যক পু’লিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকা, ভু’ক্তভোগী পরিবার ও পু’লিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালীগ্রাম এলাকার ঘুঙ্গিয়াকুল গ্রামের মজিবর মীরের ছেলে টাইলস মিস্ত্রি জাহিদ মীরের সঙ্গে মাদারীপুর জেলার ঝাউদি এলাকার কালাইমারা গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পর’কীয়া চলে আসছিল। এ নিয়ে প্রবাসীর ছেলে সাকিব ও জাহিদের মাঝে দ্ব’ন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

গত শনিবার দিবাগত রাতে জাহিদ মীর ওই প্রবাসীর বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে নাচতে যায়। এ সময় জাহিদকে প্রবাসীর ছেলে সাকিব তার বাড়ির একটি নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে বসে সাকিবের নেতৃত্বে সাগর, সামচুল হক, লোকমান, খবির ও জীবনসহ বেশ কয়েকজন মিলে জাহিদকে ধারা’লো অস্ত্র দিয়ে কু’পিয়ে জখ’ম করে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গুরু’তর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার রাতে জাহিদ মীর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যায়।

তার মৃ’ত্যুর খবর এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে সাকিব, শাহ আলম, নুর, সামচু, সাজু ও হালিসহ ৬টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে সমস্ত ঘরসহ সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কালকিনি ও ডাসার থানা-পু’লিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহ’তের ভাবি পিপাষা বেগম বলেন, বিয়ে অনুষ্ঠানে আমার দেবর জাহিদ নাচতে গেলে তাকে ডেকে নিয়ে কু’পিয়ে খু’ন করেছে সাকিব ও তার লোকজন। আমরা তাদের সঠিক বিচার চাই। নি’হতের ভাই আসাদ মীর বলেন, হ’ত্যাকারী সাকিবের মামা লোকমানের প্রভাবেই আমার ভাইকে খু’ন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার অভি’যুক্ত সবাই পলা’তক রয়েছেন।

মাদারীপুর সদর থানা ওসি মো. কামরুল হাসান জানান, মৃ’ত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বাড়িতে আ’গুন দেয়া হয়েছে। অভি’যুক্তদের আটকের চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, আমরাও পর’কীয়ার কথা শুনেছি আর এই নিয়েই হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটানো হয়েছে। সদর থানায় মাম’লা প্রক্রিয়া চলছে। তবে মা’মলা এজা’হার হলে বিস্তারিত জানতে পারবো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*